মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
আবুল হাসনাত মিনহাজ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগে বেশ কিছু স্থান রয়েছে ভ্রমণ করার মতো। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো এই বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত।বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত নির্জনতা পছন্দকারী প্রেমীদের জন্য এক আদর্শ স্থান।
পরিবার স্বজনদের সাথে নিয়ে অনেক দূর দুরত্ব থেকে দেখতে আসে হাজারো মানুষ।দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য, লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ বা দলবেঁধে বীচ ফুটবলে মেতে উঠার আনন্দ ভ্রমণকারীদের দেয় এক অপার্থিব পূর্ণতা ও আনন্দ। বাঁশখালীর কাছেই রয়েছে আরও এক আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য কুতুবদিয়া দ্বীপ।
বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত এবারের ঈদুল আযাহার ছুটিতে লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায়। সারি সারি ঝাউবন আর সুদীর্ঘ বেড়িবাঁধের উপর এ সমুদ্র সৈকত যে কারো মন কাড়ে। ঈদ আসলেই স্বজনদের কাছে বেড়াতে আসেন বন্ধুবান্ধবরা এই সমুদ্র সৈকত দেখতে।
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত দেখতে আসা পর্যটক রবিউল ইসলাম বলেন,“অনেকের মুখে শুনেছি বাঁশখালীতে কক্সবাজারের মতো সমুদ্র সৈকত আছে বার বার শুনার পর এইবার ছোট ভাই বন্ধুদের সাথে নিয়ে দেখতে এসেছি,আসলেই দেখার মতো একটা জায়গা খুব ভালো লাগলো আমি চট্টগ্রাম শহর থেকে এসে আমার অনেক বেশি ভালো লাগলো গোসল করছি ফুটবল খেলছি সবাইকে সাথে নিয়ে।
চন্দনাইশ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহিন আক্তার বলেন কক্সবাজার বা অন্য অন্য সমুদ্র সৈকত থেকে এটা কোন দিকে সুন্দর কম না বেশ আনন্দের সাথে কাটানো যায়।কক্সবাজার বা পালকিচর অথবা সি-বিস এর মতো ফটোগ্রোফার, চেয়ার দখলকারী ও হকারের উৎপাত নেই। যেখানে ইচ্ছে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানো যায়।
সাতকানিয়ার পর্যটক হাসিনা বেগম বলেন এখানকার স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রতি আন্তরিক এটা দেখে আমাদের ভালো লাগলো।তবে যাতায়তের জন্য কষ্ঠকর,রাস্তার কাজ চলছে তাই যাতায়তের সড়কের অবস্থা বেশ খারাপ রয়েছে। নির্জন এই সাগর সৈকতে নিরাপত্তা বাড়িয়ে,রাস্তাঘাট ভালো হলে আরো পযর্টক আসবে আমাদের মতো এই বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত দেখতে।
সমুদ্র এলাকার জেলে আজিজুল বলেন ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর সৈকতটিতে ঝাউ গাছ রোপন করা হয়েছে এবং তৈরি হয়েছে ঝাউ বাগান। এই সৈকতে পাওয়া যায় লাল কাঁকড়া। বিশেষ করে সকালে এই কাঁকড়াগুলো বেশি চোখে পড়ে। খুব ভালোভাবে এই সৈকত থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় এখানে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। বর্ষায় সৈকতটির প্রশস্ততা কিছুটা কমে যায়।
সমুদ্র সৈকত এলাকার ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, দিন দিন উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত সবার কাছে বিনোদন এবং পর্যটন স্পর্টে রুপ নেওয়াতে এবার ঈদের ছুটিতে প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে।রাস্তাঘাটের উন্নতি হলে সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি পযর্টক আসবে। এইখানে একটি হোটেল করা হয়ছে আরেকটি হোটেল নির্মাণ করার সিধান্ত চলছে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের সমাজসেবক শাকিল উদ্দীন সৌরভ বলেন, সমুদ্র সৈকতে যারা বেড়াতে আসেন তারা সবাই আমাদের মেহমান। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও কোনো অসুবিধা যাতে না হয় তার জন্য বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সবসময় খোঁজখবর রাখেন।
কক্সবাজার, পতেঙ্গা বা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি স্বল্প পরিচিত সমুদ্র সৈকতও রয়েছে। আর এর মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রাম জেলা শহর হতে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। যেনো এক অপ্রচলিত ভ্রমণ গন্তব্য। বালুময় বেলাভূমি এবং ঝাউবনে ঘেরা বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পর বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত বলা হয়ে থাকে।
এটি ছনুয়া, গন্ডামারা, বাহারছড়া, সরল, খানখানাবাদ উপকূল মিলিয়ে সর্বমোট ৩৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।